• Fri, Aug 2025

হাওর জনপদে নির্বাচনী জোয়ার: বিএনপির সাত, জামায়াতের এক প্রার্থী মাঠে

হাওর জনপদে নির্বাচনী জোয়ার: বিএনপির সাত, জামায়াতের এক প্রার্থী মাঠে

হাওর জনপদে নির্বাচনী জোয়ার: বিএনপির সাত, জামায়াতের এক প্রার্থী মাঠে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ-১ আসনে বইতে শুরু করেছে ভোটের হাওয়া। তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনটি জেলার বৃহত্তম ও কৌশলগতভাবে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। প্রাকৃতিক সম্পদ, পর্যটন সম্ভাবনা এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে প্রভাবের কারণে এখানকার রাজনৈতিক তৎপরতা সবসময়ই আলোচনায় থাকে। বিখ্যাত টাঙ্গুয়ার হাওরের মতোই এখানকার রাজনীতিও সরব ও প্রাণবন্ত।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই তৃণমূলে শুরু হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ। বিএনপির অন্তত সাতজন মনোনয়নপ্রত্যাশী ইতোমধ্যেই মাঠে নেমেছেন। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী থেকেও একজন প্রার্থী সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

 

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা

দলীয় মনোনয়ন পেতে যাদের নাম আলোচনায়—

তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল

কেন্দ্রীয় কৃষকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুল হক

ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোতালিব খান

সাবেক এমপি নজির হোসেনের স্ত্রী ও তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সালমা নজির

ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন

যুবদলের সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) মো. মাহবুবুর রহমান

যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ব্যারিস্টার হামিদুল হক আফিন্দী লিটন


আনিসুল হক বলেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামীবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে আমার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। দলের দুঃসময়ে মাঠ ছাড়িনি, ভবিষ্যতেও ছাড়ব না।”

কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, “দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবসময় সম্মুখসারিতে থেকেছি। মামলা-হামলা, জেল—সব মেনেছি। আশা করি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।”

আব্দুল মোতালিব খান জানান, “দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে একাধিকবার কারাভোগ করেছি। ত্যাগ ও নিষ্ঠার যথাযথ মূল্যায়ন হবে বলে বিশ্বাস করি।”

সালমা নজির বলেন, “আমার স্বামী নজির হোসেন এই আসনে মানুষের প্রতিনিধি ছিলেন। তার অসমাপ্ত কাজ শেষ করাই আমার লক্ষ্য।”

তরুণ প্রার্থী নিজাম উদ্দিন মনে করেন, গত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তরুণদের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো, তাই দল তাদের অবদান বিবেচনা করবে।


---

জামায়াতের একক প্রার্থী

জামায়াতে ইসলামী থেকে সুনামগঞ্জ জেলা আমির মাওলানা তোফায়েল আহমদ খান এ আসনে একক প্রার্থী হিসেবে প্রচারণায় নেমেছেন। তিনি তৃণমূলে সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগে সক্রিয় রয়েছেন।

তিনি বলেন, “জনগণের ভালোবাসা ও দলের আস্থায় মনোনীত হয়েছি। উন্নয়ন, ন্যায্যতা ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাই আমার লক্ষ্য।”


---

অন্যান্য প্রার্থী ও প্রেক্ষাপট

২০০৮ সালে বিএনপি প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী পুনরায় বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে বিকল্পধারায় যোগ দিয়েছিলেন। তার প্রত্যাবর্তনে স্থানীয় বিএনপিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

বর্তমানে এবি পার্টি, এনসিপি বা অন্যান্য ইসলামী রাজনৈতিক দলের কাউকে এখনো মাঠে দেখা যায়নি।